দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন যে দেশের নতুন নেতৃত্ব তার প্রশাসনের সাথে কথা বলতে চান এবং তিনি তা করার পরিকল্পনা করছেন। "তারা কথা বলতে চায়, এবং আমি কথা বলতে রাজি হয়েছি, তাই আমি তাদের সাথে কথা বলব," ম্যাগাজিনটি তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে। "তাদের এটা আরও আগেই করা উচিত ছিল। তাদের উচিত ছিল যা খুবই বাস্তবসম্মত এবং সহজে করা যায় তা আরও আগেই দেওয়া। তারা অনেক বেশি অপেক্ষা করেছে," তিনি আরও বলেন। দ্য আটলান্টিকের মতে, কথোপকথন কখন হবে তা জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।
তেহরান, ১ মার্চ ২০২৬: ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শাহাদাতবরণ করেছেন। রোববার প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, শনিবার ভোরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তিনি শহীদ হন। সরকারের পক্ষ থেকে এ হামলাকে ‘অপরাধমূলক আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ইন্তেকালের পর থেকে টানা ৩৭ বছর ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরানের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ইরান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে যে তারা এই হামলার জবাবে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
মাত্র কয়েক মিনিট আগে, আমরা একটি ইসরায়েলি ইন্টারসেপ্টিং মিসাইল আকাশে নিক্ষেপ করতে দেখেছি, যা আসন্ন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলির একটিকে বাধা দিতে পারে। ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মতে, ২১ জন ইসরায়েলি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ষোল জন হালকা আহত হয়েছেন, এবং দুজনের অবস্থা গুরুতর বা গুরুতর বলে জানা গেছে। আমরা এখনও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস থেকে আরও আপডেটের জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা বলতে পারি যে ইরানের আক্রমণের তীব্রতা সত্যিই ক্রমশ বাড়ছে। গত এক ঘন্টায়, আমরা তিনটিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ লক্ষ্য করেছি। ইসরায়েলিদের জন্য এটি একটি কঠিন রাত বলে মনে হচ্ছে। বর্তমানে রাত, এবং আমরা ঘন ঘন সাইরেন এবং ইরানি আক্রমণের অতিরিক্ত ঢেউ শুনতে পাচ্ছি। সর্বদা হিসাবে, এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে ইসরায়েলিদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি, সতর্কতা সাইরেন এবং সুরক্ষার জন্য আশ্রয়স্থল থাকলেও, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অধীনে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের একই স্তরের সুরক্ষা নেই। তাদের আশ্রয় খোঁজার কোথাও নেই এবং এই যুদ্ধ তাদের কীভাবে প্রভাবিত করবে তা তারা পর্যবেক্ষণ করছে। ইতিমধ্যে, ইসরায়েলি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আজ সকালে হেবরনের কাছে ইসরায়েলি অভিযানের সময় একজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণও থামেনি। ফিলিস্তিনিরা বলছেন যে তারা ইতিমধ্যেই ভারী সামরিক দখলদারিত্বের অধীনে বাস করছেন, এবং এখন তারা আশঙ্কা করছেন যে বৃহত্তর সংঘাত আরও তীব্র হবে।
ynetnews-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানের একাধিক স্থানে সমন্বিত সামরিক হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে ইরানের ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সমাবেশ করছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়ে থাকতে পারেন—যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৮টা ১০ মিনিটে প্রথম হামলাটি শুরু হয়। একই সময়ে তেহরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত হানা হয়। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে Operation Roaring Lion। ynetnews-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী শামখানি, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আবদোলরহিম মুসাভি এবং গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খতিব। সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, কয়েক মাস ধরে এই অভিযানের পরিকল্পনা চলছিল। গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে এমন একটি সময় চিহ্নিত করা হয়, যখন শীর্ষ কর্মকর্তারা একত্রিত থাকবেন। কৌশলগত চমক তৈরি করতে রাতের পরিবর্তে সকালে হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ynetnews-এর ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইসরায়েলই সরাসরি ইরানের নেতৃত্বের ওপর হামলা চালিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের অংশ হিসেবেই এমনটি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনো লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তারা জানিয়েছেন, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছে। ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার–এর কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস–৪’ কোনোভাবেই থামবে না। শনিবার তেহরানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইসলামিক ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসনের প্রকাশ্য আগ্রাসনের জবাবে, দখলকৃত সব অঞ্চল এবং অঞ্চলে থাকা অপরাধী মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিশালী হামলার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “শত্রুর সম্পূর্ণ পরাজয় না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।” মেজর জেনারেল আবদোল্লাহি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে পুরো অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সম্পদ ও স্বার্থ এখন থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি দেশের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশ, জাতি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় ও শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখবে। এর আগে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার একটি বড় ধাপ শুরু হয়েছে। আইআরজিসি জানায়, “ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের আগ্রাসনের জবাবে দখলকৃত অঞ্চল লক্ষ্য করে ইরানের বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে।”
মার্কিন সিনেটর Edward J. Markey ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর সামরিক হামলাকে “অবৈধ ও অসাংবিধানিক” বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন। এক বিবৃতিতে মার্কি বলেন, এই হামলা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। তার মতে, প্রেসিডেন্টের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ শুধু আইনি প্রশ্নই তোলে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়ায়। এতে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। মার্কির অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক হুমকিকে অতিরঞ্জিত করেছে। “অপারেশন মিডনাইট হ্যামার” নামের অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘নিশ্চিহ্ন’ করার দাবি করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio স্বীকার করেছেন যে ইরান বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে না। মার্কির ভাষায়, সামরিক হামলার আগে কূটনৈতিক সমাধানের যথেষ্ট সুযোগ ছিল এবং এখনও আছে। বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, “এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তৈরি একটি সংকট। আমেরিকান জনগণ মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চায় না। তারা চায় না তরুণ নারী-পুরুষদের বিদেশে অনির্দিষ্ট যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হোক, যখন দেশের ভেতরে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার খরচ নিয়ে সংগ্রাম করছে।” মার্কি সতর্ক করে দেন, প্রেসিডেন্ট যদি অবিলম্বে এই সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ না করেন, তবে কংগ্রেসকে সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে হস্তক্ষেপ করতে হবে। তার স্পষ্ট অবস্থান—ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয়।
🔹কাতারে অবস্থিত ৫,০০০ কিলোমিটার পরিসরের আমেরিকান FP132 রাডারটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ট্র্যাক করার জন্য পরিচালিত অনন্য সরঞ্জাম রয়েছে। 🔹এই রাডারটি একটি ওভার-দ্য-হরাইজন (OTH) ধরণের, যা প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কে "প্রাথমিক সতর্কতা" বা প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার হিসাবে পরিচিত। এই সিস্টেমের কার্যকারিতা এমন যে কোনও প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র ভূমি থেকে উড়ে যাওয়ার সাথে সাথে এটি এটি সনাক্ত করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বাধা এবং ধ্বংসের জন্য কমান্ড সেন্টারে গতিবিধির প্রাথমিক দিক এবং পথ প্রেরণ করে। 🔹এই রাডারটি ধ্বংস করার অর্থ হল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রারম্ভিক সতর্কতা স্তরটি নির্মূল করা। এই পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা হারানোর সাথে সাথে, ইহুদিরা আর গুলি চালানোর প্রাথমিক সতর্কতা পেতে সক্ষম হবে না এবং ফলস্বরূপ, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলা করার তাদের কার্যকরী সুযোগ মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে যাবে। 🔹প্রযুক্তিগতভাবে, অধিকৃত অঞ্চলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আগে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রায় ৭ মিনিট সময় ছিল; কিন্তু এই রাডার ধ্বংসের সাথে সাথে, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টি প্রায় ২ মিনিটে কমে গেছে, যা তাদের প্রতিরক্ষা ক্ষমতার জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া আমাদের সামনে এসেছে, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনার মধ্যস্থতাকারী ছিলেন। একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে, আলবুসাইদি বলেছেন যে আজকের হামলায় তিনি "হতাশ"। "সক্রিয় এবং গুরুতর আলোচনা আবারও ক্ষুণ্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বিশ্ব শান্তির কারণ কোনটিই ভালোভাবে পূরণ হচ্ছে না। এবং আমি নিরপরাধদের জন্য প্রার্থনা করছি যারা ভুক্তভোগী হবেন," তিনি আরও যোগ করেন। "আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করছি যেন তারা আর এতে জড়িয়ে না পড়ে। এটা তোমাদের যুদ্ধ নয়।"
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাগুলিকে "একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি পূর্বপরিকল্পিত এবং অপ্ররোচনামূলক সশস্ত্র আগ্রাসন" বলে অভিহিত করে, সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার এবং কূটনীতিতে ফিরে আসার দাবি জানিয়েছে। টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে, মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ "আড়ালে" রাখার অভিযোগ করেছে, একই সাথে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করছে, সতর্ক করে দিয়েছে যে এই হামলাগুলি এই অঞ্চলে "মানবিক, অর্থনৈতিক এবং সম্ভবত তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়" সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে "মধ্যপ্রাচ্যকে অনিয়ন্ত্রিত উত্তেজনার অতল গহ্বরে নিমজ্জিত করার" অভিযোগ করেছে। মস্কো আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার সুরক্ষার অধীনে পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে বোমা হামলাকে "অগ্রহণযোগ্য" বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে যে তারা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে মধ্যস্থতা করতে সাহায্য করতে প্রস্তুত, একই সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের উপর উত্তেজনার সম্পূর্ণ দায় চাপিয়েছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে দেশটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে "কিছু" ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আবুধাবির একটি আবাসিক এলাকায় বোমার আঘাতে কিছু বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে এবং একজন এশীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। "মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, বেসামরিক বস্তু, সুযোগ-সুবিধা এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রের স্পষ্ট প্রত্যাখ্যানের উপর জোর দিয়েছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে এই ধরনের কাজ একটি বিপজ্জনক বৃদ্ধি এবং একটি কাপুরুষোচিত কাজ যা বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করে," এতে বলা হয়েছে। "মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে এই লক্ষ্যবস্তু হামলা জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, এবং রাষ্ট্র এই উত্তেজনার প্রতিক্রিয়া জানানোর এবং তার ভূখণ্ড রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে," বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, এটি "যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং প্রস্তুত"।
বাহরাইন জানিয়েছে যে মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দপ্তর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এটি আক্রমণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কোনও তথ্য দেয়নি।
ইরানের আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে যে তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের "প্রথম ধাপ" চালু করেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে তারা আরও হামলার পরিকল্পনা করছে।
শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছিল, একজন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। কর্মকর্তা আরও বলেন, অভিযানটি কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং উৎক্ষেপণের তারিখ কয়েক সপ্তাহ আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
শনিবার ইসরায়েলের হামলার পর ইরান প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন একজন ইরানি কর্মকর্তা। কর্মকর্তা বলেন, প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ হতে চলেছে।
তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবরের মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি একটি “প্রতিরোধমূলক হামলা” এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বাজানো হয়েছে। শনিবার ভোরে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলীও দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন। হামলার পর রাজধানীজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াভ গ্যালান্ট বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, “আগামী সপ্তাহগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।” এদিকে একটি মার্কিন নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলের গণমাধ্যম চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, এটি একটি “ইসরায়েলি-আমেরিকান যৌথ অভিযান”, যার পরিকল্পনা কয়েক মাস ধরে চলছিল। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নাগরিকদের সুরক্ষিত স্থানের কাছাকাছি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল, জনসমাবেশ এবং অপ্রয়োজনীয় কর্মক্ষেত্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে উভয় দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করছে আন্তর্জাতিক মহল। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।