২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়ান(বিজিবি)”র সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পেকপাড়া বিওপি কর্তৃক বাংলাবাজার ইউনিয়নের মোকামছড়া নামকস্থানে টহলরত অবস্থায় একদল সংঘবদ্ধা চোরাকারবারীচক্র সীমান্ত অতিক্রম করে ভারত থেকে অবৈধভাবে একটি গরুুর চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসার সময় সীমান্ত বাহিনী বিজিবি”র সদস্যরা ধাওয়া করলে তাদের উপর ইট পাটকেল,বাঁশের লাঠি,হাসুয়া ও চাকু দিয়ে হামলা চালায়। এতে সীমান্ত বাহিনী বিজিবি”র সদস্যরা আহত হন।
ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের গত ২২ মার্চ বিকেলে। এই ঘটনায় গত ২৪ মার্চ বিজিবি” বাদি হয়ে স্থানীয় দোয়ারাবাজার থানায় হামলাকারী ৮জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং- ২৪/৭২। এই হামলার ঘটনায় গত ১২ আগষ্ট স্থানীয় বিজিবি”র সহায়তায় দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ৫ ও ৭ নম্বর আসাসমীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পেকপাড়া গ্রামের সমশের আলীর ছেলে চোরাকারবারী খোকন মিয়া(৩২),একই গ্রামের লিচু মিয়ার ছেলে সিরাজ মিয়া(২৭) ।
অপরদিকে ২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়ান(বিজিবি)”র সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার লাউরগড় বিওপি কর্তৃক লাউরগড় এলাকায় একটি চিহিৃত সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীচক্র সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধপস্থায় ভারত থেকে অবৈধ ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসার সময় লাউরগড় বিওপি”র কমান্ডারসহ টহলদলের সদস্যরা চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীচক্র বিজিবি”র সদস্যদের উপর অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তাদের আহত করেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৬ ই আগষ্ট বিকেলে। এই হামলায় বিজিবি”র সদস্যরা আহত হন এবং একটি স্প্রীডবোড ক্ষতিসাধিত হয়।
এই ঘটনায় বিজিবি”র পক্ষ থেকে হামলার সাথে জড়িত ৪জন চোরাকারবারীকে আসামী করে তাহিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং -০৬,তারিখ-০৬/০৮/২০২৫ইং। এই হামলার ঘটনায় গত ১২ই আগষ্ট স্থানীয় বিজিবি”র সহায়তা তাহিরপুর থানা পুলিশ মামলার ২ নং,৩নং ও ৪নং আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন তাহিরপুর উপজেলার লাউরগড় গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে চোরাকারবারী মোঃ আলী(২৫),সাহিদাবাদ গ্রামের মৃত আবু বক্করের ছেলে মোঃ আজবিরুল ইসলাম(২৫) ও লাউরগড় গ্রামের মোস্ত মিয়ার ছেলে মোঃ কাজী মিয়া(৩০)।
এ ব্যাপারে ২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়ান(বিজিবি)”র সুনামগঞ্জ অঞ্চলের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল একেএম জাকারিয়া কাদির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,পাশর্^বর্তী ভারতের সাথে সুনামগঞ্জে কয়েকটি উপজেলায় ৯০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে এবং এই ৯০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা ১৯টি বিওপির সদস্যরা সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকেন। কিন্ত বর্তমানে চোরাকারবারীচক্রের সদস্যরা আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের উপর হামলা একটি নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাড়িঁয়েছে। তারপরেও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থানের কারণে চোরাকারবারীদের অপতৎপরা রোধে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর অবস্থানের জন্য তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করায় চোরাকারবারীদের মনোবল ভেঙ্গে পড়েছে। এইসব হামলাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার কারণে আইন শৃংখলা বাহিনীর উপর হামলার ঘটনা অনেকাংশে কমে আসছে বলে মনে করেন তিনি।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
টাঙ্গাইল বিসিকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা গুরুতর আহত এক ব্যক্তি টাঙ্গাইল জেলার বিসিক শিল্প এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার (২২ মার্চ) জেলার তারুটিয়া এলাকায় হঠাৎ করেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায় একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেল আরোহী মারাত্মকভাবে আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই সিএনজি চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার পরিবারের সন্ধান পেতে স্থানীয়রা সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। আহত ব্যক্তির সঙ্গে থাকা একজন সহায়তাকারীর মোবাইল নম্বর ০১৭৩৩-১৩৬৪৭৬ উল্লেখ করে দ্রুত যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা-এর আওনা ইউনিয়ন-এর অন্তর্গত কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গ্রামকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সচেতন মানুষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং বিভিন্ন দোকানপাট, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলে মাদকবিরোধী পোস্টার লাগানো হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কাবারিয়াবাড়ী এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যক্তির কারণে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরিচিত ও সন্দেহভাজন লোকজনের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এতে করে গ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং এলাকার সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীরা জানান, আগে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামটি শান্তিপূর্ণ ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের বিস্তার এবং কিছু অসাধু চক্রের তৎপরতার কারণে গ্রামের পরিবেশ ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে। এতে করে গ্রামের সম্মান, মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদকের প্রভাবের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ঝগড়া-বিবাদসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক সমস্যার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ পরিস্থিতিতে গ্রামের ছোট-বড় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষের জীবনই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার এবং পুরো সমাজকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। তাই কাবারিয়াবাড়ী গ্রামকে মাদকমুক্ত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদকবিরোধী এই কর্মসূচির সময় গ্রামবাসীরা লিফলেটের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেন। লিফলেটে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয় এবং মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দোকান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার লাগিয়ে এলাকাবাসীকে মাদকবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গ্রামবাসীরা জানান, তারা শুধু সচেতনতা তৈরিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। প্রয়োজনে গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও ভাবছেন তারা। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। এদিকে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামটিকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করবে। স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস, সামাজিক সচেতনতা, জনগণের ঐক্য এবং প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে খুব শিগগিরই কাবারিয়াবাড়ী গ্রাম থেকে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে করে আবারও গ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
টাঙ্গাইলে দেশি পণ্যকে বিদেশি বলে বিক্রি এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল পণ্য বাজারজাত করার অভিযোগে বন্ড, টপটেন ও মেঘামার্ট নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একইসঙ্গে বেশ কিছু নকল পারফিউম ও কসমেটিকস জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা সদর সড়কের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান দেশি তৈরি পণ্যকে বিদেশি পণ্য হিসেবে বিক্রি করছে এবং নামিদামি ব্র্যান্ডের নকল পারফিউম ও কসমেটিকস প্রদর্শন ও বিক্রি করছে। এ সময় চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নকল পাঞ্জাবি, প্যান্ট ও অন্যান্য পোশাক বিক্রিরও প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বন্ডকে ৫০ হাজার টাকা, টপটেনকে ৫০ হাজার টাকা এবং মেঘামার্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল। তিনি বলেন, “দেশি পণ্যকে বিদেশি বলে বিক্রি, নকল পণ্য বাজারজাতকরণ এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু নকল পণ্য জব্দ করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে নকল পণ্যের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।