জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলাতে সাংবাদিকের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় দীর্ঘ প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয় জনগণ, সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্ট এর সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি এবং দৈনিক আমাদের বসুন্ধরা পত্রিকার জামালপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক রফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে গত ১৭/০৫/২০২৬ ইং, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৪:০০ ঘটিকার সময় একটি TVS Styker মোটরসাইকেল চুরি হয়। চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটির তথ্য নিম্নরূপ— - ব্র্যান্ড : TVS Styker - রং : Black & Red - চেসিস নম্বর : PS62SBF43L6F21249 - ইঞ্জিন নম্বর : FF4AL10L4396 ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাটি ঘটার দিনই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু অদ্যাবধি চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার কিংবা ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, এর আগেও একই গ্রাম থেকে অন্তত পাঁচটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো কার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়নি। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ধরনের চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চোরচক্র সক্রিয় থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অভিযান খুব কমই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এদিকে একজন সাংবাদিকের মোটরসাইকেল চুরি হওয়ার পরও তা উদ্ধার না হওয়ায় সাংবাদিক মহলেও ব্যাপক হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মুখে এখন একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— “সাংবাদিকদের মোটরসাইকেলই যদি উদ্ধার না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?” স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তারা গোয়েন্দা সংস্থা ও বিশেষ বাহিনীর কাছে চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মাদক সেবন ও বিক্রির দায়ে ৩ জন দণ্ডিত টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের কোপাখি গ্রামে মাদকদ্রব্য সেবন ও বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।বুধবার (২০ মে ২০২৬) সহকারী কমিশনার (ভূমি), দেলদুয়ার পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। অভিযানে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। জনস্বার্থে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মাদক নির্মূলে আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শনে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা ২০২৬ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিদর্শন করেছেন মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।মঙ্গলবার তিনি রাবনা বাইপাস থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখেন। এ সময় ঈদকে কেন্দ্র করে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সম্ভাব্য যানজট এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পুলিশ সুপার বলেন, ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে যানজট নিরসন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং যাত্রীসেবায় ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আদিবুল ইসলাম, মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এছাড়াও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যের ধারক সরকারি সা’দত কলেজ ইতিহাস বিকাশ ও অবদান টাঙ্গাইলের করটিয়ায় অবস্থিত সরকারি সা’দত কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশের শিক্ষা-সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় এক শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী এই বিদ্যাপীঠ উত্তরবঙ্গ ও মধ্যাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম নির্ভরতার কেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা পালন করে আসছে। এর প্রতিষ্ঠা, বিকাশ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবদান—সব মিলিয়ে সা’দত কলেজ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোর মধ্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।প্রতিষ্ঠার পটভূমি ও জমিদার পন্নী পরিবারের অবদানব্রিটিশ শাসনামলে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে জমিদার ও অভিজাত পরিবারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষানুরাগী জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ১৯২৬ সালের জুলাই মাসে তাঁর পিতামহ সা’দত আলী খান পন্নী-এর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে করটিয়ায় এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তৎকালীন সময়ে টাঙ্গাইল অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত ছিল। ঢাকায় গিয়ে পড়াশোনা করা অধিকাংশ সাধারণ পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মানসম্মত কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা থেকেই সা’দত কলেজের জন্ম হয়। কলেজটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে প্রায় ২৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, যা সে সময়ের জন্য অত্যন্ত পরিকল্পিত ও বৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত ছিল। শুরুতে মাত্র ১০৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজটির যাত্রা শুরু হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের অন্যতম শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ইবরাহীম খাঁর নেতৃত্ব কলেজটির বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ ইবরাহীম খাঁ। তিনি ১৯২৬ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।ইবরাহীম খাঁ ছিলেন একজন আধুনিক ও প্রগতিশীল শিক্ষাচিন্তার ধারক। তাঁর নেতৃত্বে কলেজটিতে শুধু পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা নয়, সাহিত্য সংস্কৃতি, বিতর্ক ও সামাজিক চেতনার বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনিশিক্ষার্থীদের নৈতিকতা নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে বিশেষ মনোযোগ দেন।অনেক বিশ্লেষকের মতে সা’দত কলেজের প্রাথমিক শক্ত ভিত নির্মাণে ইবরাহীম খাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বই ছিল মূল চালিকাশক্তি। একাডেমিক বিকাশ: সাধারণ কলেজ থেকে পূর্ণাঙ্গ স্নাতকোত্তর প্রতিষ্ঠানসা’দত কলেজ প্রতিষ্ঠার পর ধারাবাহিকভাবে এর একাডেমিক পরিধি বৃদ্ধি পেতে থাকে।ডিগ্রি কলেজে উন্নীতকরণ (১৯৩৮)প্রতিষ্ঠার মাত্র এক যুগের মধ্যেই কলেজটি শিক্ষাগত মান ও শিক্ষার্থী সংখ্যার কারণে ১৯৩৮ সালে ডিগ্রি কলেজে উন্নীত হয়। এটি ছিল কলেজটির জন্য প্রথম বড় একাডেমিক স্বীকৃতি।অনার্স কোর্স চালু (১৯৬৬) পাকিস্তান আমলে উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ১৯৬৬ সালে কলেজটিতে বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়। এর ফলে টাঙ্গাইল অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় পর্যায়েই উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। মাস্টার্স কোর্স চালু (১৯৭৪)স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে মাস্টার্স কোর্স চালুর মাধ্যমে কলেজটি পূর্ণাঙ্গ স্নাতকোত্তর কলেজে রূপ নেয়। এটি ছিল প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে আরেকটি বড় মাইলফলক। বর্তমানে কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।ঐতিহাসিক মূল ভবন ও স্থাপত্য ঐতিহ্য কলেজটির মূল ভবন শুধু একটি প্রশাসনিক বা একাডেমিক ভবন নয় এটি ঐতিহাসিক স্থাপত্যেরও অংশ। বাংলার প্রখ্যাত নেতা এ কে ফজলুল হক এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।১৯৩৯ সালে নির্মিত ভবনটি ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যশৈলী বহন করে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটি এখনো কলেজের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভবনটির নির্মাণশৈলীতে উপমহাদেশীয় ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।সরকারিকরণ ও প্রশাসনিক পরিবর্তন১৯৭৯ সালের ৭ জুলাই কলেজটিকে সরকারিকরণ করা হয়। সরকারিকরণের ফলে কলেজটির প্রশাসনিক কাঠামোশিক্ষক নিয়োগ অবকাঠামো উন্নয়ন ও একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হয়।সরকারি কলেজে রূপান্তরের পর শিক্ষার্থী সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং কলেজটি জাতীয় পর্যায়ে আরও পরিচিতি লাভ করে।রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভূমিকা সা’দত কলেজ শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ভাষা আন্দোলন স্বাধিকার আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কলেজটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে এ কলেজের ছাত্রসমাজ অংশগ্রহণ করেছিল বলে স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়।সাংস্কৃতিক চর্চা কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইল অঞ্চলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সাহিত্যচর্চ নাটক বিতর্ক, সংগীত ও ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠান বহু নেতৃত্ব তৈরি করেছে।বর্তমান অবস্থান ও গুরুত্ব বর্তমানে সরকারি সা’দত কলেজ টাঙ্গাইল অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সরকারি কলেজ। এখানে বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। হাজারো শিক্ষার্থী প্রতি বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে।প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ ইতিহাস একাডেমিক সুনাম, ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ ও সামাজিক অবদান একে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোর কাতারে স্থান দিয়েছে।এক শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সরকারি সা’দত কলেজ আজও শিক্ষা বিস্তার, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলাতে সাংবাদিকের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় দীর্ঘ প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয় জনগণ, সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্ট এর সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি এবং দৈনিক আমাদের বসুন্ধরা পত্রিকার জামালপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক রফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে গত ১৭/০৫/২০২৬ ইং, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৪:০০ ঘটিকার সময় একটি TVS Styker মোটরসাইকেল চুরি হয়। চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটির তথ্য নিম্নরূপ— - ব্র্যান্ড : TVS Styker - রং : Black & Red - চেসিস নম্বর : PS62SBF43L6F21249 - ইঞ্জিন নম্বর : FF4AL10L4396 ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাটি ঘটার দিনই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু অদ্যাবধি চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার কিংবা ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, এর আগেও একই গ্রাম থেকে অন্তত পাঁচটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো কার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়নি। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ধরনের চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চোরচক্র সক্রিয় থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অভিযান খুব কমই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এদিকে একজন সাংবাদিকের মোটরসাইকেল চুরি হওয়ার পরও তা উদ্ধার না হওয়ায় সাংবাদিক মহলেও ব্যাপক হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মুখে এখন একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— “সাংবাদিকদের মোটরসাইকেলই যদি উদ্ধার না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?” স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তারা গোয়েন্দা সংস্থা ও বিশেষ বাহিনীর কাছে চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন
শামীম শাহরিয়ার
বিভাগ, জেলা বা উপজেলা নির্বাচন করে সংবাদ দেখুন
ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শনে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা ২০২৬ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিদর্শন করেছেন মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।মঙ্গলবার তিনি রাবনা বাইপাস থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখেন। এ সময় ঈদকে কেন্দ্র করে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সম্ভাব্য যানজট এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পুলিশ সুপার বলেন, ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে যানজট নিরসন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং যাত্রীসেবায় ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আদিবুল ইসলাম, মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এছাড়াও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই বদলীর আদেশ গোপালপুরের নবাগত ইউএনও লাইলাতুল হোসেন উন্নয়ন ও জনসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই বদলীর আদেশ পেয়েছেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাইলাতুল হোসেন। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলীর কারণে উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনসেবাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।জানা যায় সম্প্রতি গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন লাইলাতুল হোসেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের দিনই তাঁর বদলীর আদেশ জারি হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও হতাশা তৈরি করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য একজন কর্মকর্তা নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রশাসনিক বাস্তবতা বুঝে কাজ শুরু করতে না করতেই বদলীর আদেশ চলে আসে। এতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয়।বিশেষ করে ভূমিসামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিঅবকাঠামো উন্নয়ন ও স্থানীয় প্রশাসনিক সেবার ক্ষেত্রে জনগণকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে ঘন ঘন কর্মকর্তার পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা সময়মতো পাচ্ছেন না।সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনের প্রতি জনআস্থাও কমে যেতে পারে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন গোপালপুরবাসী।
জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারে আইজিপির ঈদ উপহার প্রদান কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মহোদয়ের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে শহীদ পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গের মাঝে। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) জামালপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অফিস কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন।এসময় তিনি বলেন দেশের নিরাপত্তা ও জনগণের সেবায় আত্মত্যাগকারী পুলিশ সদস্যদের অবদান বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাদের পরিবারের পাশে থাকা বাংলাদেশ পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জামালপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় কর্তব্য পালনের সময় আত্মবলিদানকারী সদস্যদের স্মৃতি ও পরিবারের সম্মান রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বিরিশিরি থেকে দুর্গাপুর পৌরশহরের প্রবেশদ্বারেই ময়লার ভাগারের কারনে নষ্ট হচ্ছে পৌরশহরের ভাবমুর্তি। বিভিন্ন মিডিয়ায় এমন সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার নেত্রকোনা - ১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এর। দুর্গাপুর উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষনা দিয়েছেন তিনি। এরই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, সোমেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মান, জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেল সংযোগ, সাধারণ জনগনের যাতায়াতে সুবিধার্থে নিজ অর্থায়নে কাঠের সেতু নির্মান সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নানাবিধ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আসন্ন ঈদুল আযহা, শহরের পরিচ্ছন্নতা এবং পর্যটকদের কথা ভেবে এই উদ্দ্যেগ নিয়েছেন তিনি। পৌরশহরের বাসষ্টেন্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লায় ভাগাড় থাকায় ওই এলাকার আশ-পাশের মানুষ, পথচারী, পর্যটকগণ এক বির্বতকর অবস্থায় পড়ছে প্রতিনিয়ত। পৌরশহরে ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থান না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শহরের ওই এলাকায় ময়লা সহ নানা ধরনের বর্র্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে করে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ডেঙ্গুজ্বর ও নানাবিধ রোগ দেখা দিচ্ছে। এ থেকে পরিত্রানের লক্ষে ডেপুটি স্পীকারের নির্দেশে মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে পৌর যুবদলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহনে পৌরশহরের বাস ও সিএনজি ষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে দীর্ঘদিনের জমানো ময়লা পরিস্কারের উদ্দ্যোগ নেয়া হয়। ওই এলাকার বাসিন্দা আমেনা খাতুন বলেন, এখানে ময়লা জমানো থাকায় আমাদের বাসাবাড়িতে দিনের বেলাতেও কয়েল জ্বালিয়ে কাজ করতে হতো। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের প্রায়ই জ্বর ও পেটের অসুখে ভুগতাম আমরা। আমাদের মানবিক নেতা ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহন করেছেন, আমরা উনার প্রতি কৃতজ্ঞ। বাসষ্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা আলী উসলাম বলেন, এখানে ময়লা থাকায় দুর্গন্ধের কারনে রাস্তা দিয়ে হাটা যেতো না। অনেকেই পেটের পীড়ায় ভুগতো। অনেক সময় কুকুরের ঝগড়ার কবলে পড়তে হতো পথচারিদের। পৌরকর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানালেও স্থায়ীভাবে পরিস্কার করতে পারেনি তারা। আজ ব্যারিস্টার স্যার ময়লা পরিস্কারের জন্য যে উদ্দ্যেগ নিলেন, আমরা উনার প্রতি চীর কৃতজ্ঞ থাকবো। এ নিয়ে দুর্গাপুর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পৌরশহরের ময়লা ও বর্জ্য নিষ্কাষনের জন্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গা দেখেছি। এ নিয়ে ডেপুটি স্পীকার স্যারের সাথে পরামর্শ ক্রমে, অল্প কিছুদিনের মধ্যে প্রকল্পের গ্রহনের মাধ্যমে ময়লা ফেলার ডাম্পিং পয়েন্ট নির্মান করা হবে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফলদ বৃক্ষরোপন করার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”