অবশেষে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একে একে শপথ নেন ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রশাসনে শুরু হলো নতুন অধ্যায়।
শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সালাউদ্দিন আহমেদ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন হাফিজউদ্দিন আহমেদ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ড. খলিলুর রহমান।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এনাম এহসানুল হক মিলন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সরদার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন।
সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন সমন্বিত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন শেখ রবিউল আলম। কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আসাদুজ্জামান এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন জহিরউদ্দিন স্বপন।
একই অনুষ্ঠানে ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীও শপথ নেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শামা ওবায়েদ (পররাষ্ট্র), নুরুল হক নূর (শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ), ববি হাজ্জাজ (শিক্ষা) প্রমুখ।
শপথ অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা দেশের উন্নয়ন, সুশাসন ও জনকল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়—নতুন দল কত দ্রুত তাদের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
সরকারি গাড়িতে নয় নিজের গাড়িতেই চলাফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী নিজের গাড়ি নিজের চালক ও নিজের ক্রয় করা জ্বালানি ব্যবহার করবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না।আজকে দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী সাভার ও শেরেবাংলানগর গিয়েছিলেন নিজের টয়োটা গাড়ি চড়ে সেখানে থেকে সচিবালয়ে তিনি এসেছেন সেই গাড়িতেই। আতিকুর রহমান বলেন যানজটের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার গাড়িবহরের সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হয়েছে। এত দিন গাড়িবহরে ১৩-১৪টি গাড়ি থাকত। আজ সেটা কমিয়ে চারটি করা হয়েছে। শপথ নেওয়ার পর বুধবার প্রথম দিনের কর্মসূচিতে পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অথবা বিদেশি মেহমানদের সফরের সময় তার গাড়িতে পতাকা ব্যবহার করা হবে বলে জানান আতিকুর রহমান রুমন।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হলে সব মন্ত্রীকে সচিবালয় থেকে আসতে একটা জট সৃষ্টি হয়, ভিআইপি চলাচলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মুখে পড়ে। সেসব কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী বেশির ভাগ সময় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রী যাত্রাপথে সড়কের দুই ধারে পোশাকধারী পুলিশের অবস্থানের যে নিয়ম তা-ও বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজন, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, সোমবার দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রীয় এ গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে কঠোর প্রটোকল নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে সার্বিক প্রস্তুতি।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ কূটনীতিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংবিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক সমন্বয় এবং প্রস্তুতি তদারকি করছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। আয়োজক সূত্র জানায়, নিরাপত্তা জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং গোটা এলাকা সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য নির্ধারিত গেট ব্যবহার এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে যান চলাচলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এর মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনে সর্বস্তরের জনগণের দৃষ্টি এখন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার দিকে। আগামীকাল বিকেলে শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নতুন মন্ত্রিসভার পথচলা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জেলা ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের সভা অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬কে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে জেলা ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার জনাব শরীফা হক। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।সভায় পুলিশ সুপার মহোদয় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষ্যে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জনগণের জান-মালসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংস্থাকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সতর্কতা পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।পুলিশ সুপার আরও বলেন নির্বাচনকালীন সময়ের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন ভোটকেন্দ্র ও ভোটকেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মকসহযোগিতার আহ্বান জানান।সভায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ র্যাব ও বিজিবি’র প্রতিনিধিবৃন্দ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ,জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম,পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) টাঙ্গাইল,জনাব কাজী শাহনেওয়াজ,পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) টাঙ্গাইল,জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ডান্টসহ টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ এবং বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভায় অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গৃহীত প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়সমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।