আতঙ্কে কেঁপে উঠছে ধর্ষণের শিকার শিশুটি, ঈদ কাটল আইসিইউতে ২৪ মার্চ নির্যাতনের শিকার কুষ্টিয়ার মাদ্রাসার সেই শিশুশিক্ষার্থীর (১০) ঈদ কেটেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ)। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করার আলামত পেয়েছেন চিকিৎসকেরা। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।ঈদেও আইসিইউতে শিশু অবস্থা জটিলঈদের আনন্দের দিনটিও কাটছে না নির্যাতিত শিশুটির। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি থাকা এই শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এক দিনের জন্য শিশুটিকে আইসিইউ থেকে ওসিসিতে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হয়। দ্রুত তাকে আবার আইসিইউতে ফিরিয়ে আনা হয়। আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান শিশুটির বুকে বড় আঘাত রয়েছে, যে কারণে তার কাশির সঙ্গে রক্ত বের হচ্ছিল। তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে কাশির সঙ্গে রক্ত আসা বন্ধ হয়েছেবাকিন্তু তার স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগবে। তিনি আরও জানান শিশুটির চেতনা আছে। তবে পাশে দাঁড়িয়ে তার বিষয়ে কথা বললেই সে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কেঁপে উঠছে।শিশুটির বাবা জানান, তার মেয়ের শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। গায়ে জ্বর। রাতে মাথায় পানি দেওয়ার জন্য তার মাকে ভেতরে ডেকে নেওয়া হয়। শিশুটির মা বলেন কয়েক দিন থেকেই তাঁর মেয়ের জ্বর আসছে। রাতে অনেক জ্বর ছিল। এ জন্য মাথায় পানি দিতে হয়েছে, গা মুছে দিতে হয়েছে। শিশুটি ঘুমাতে পারছিল না।ধর্ষণের স্পষ্ট প্রমাণ সতীচ্ছদ পর্দা ক্ষতিগ্রস্তশিশুটিকে গত ১৬ মার্চ সকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার একটি মাদ্রাসা থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানান হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস।গাইনি পরীক্ষার প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে শিশুটির সতীচ্ছদ পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। নিশ্চিতকরণের জন্য ইতিমধ্যে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।শিশুটির মায়ের ভাষ্য, মেয়েকে ভর্তির পরই তিনি খবর পেয়েছিলেন মাদ্রাসায় শিশুদের নির্যাতন করা হয়। তাই দুই-তিন মাস আগে মেয়ের ভর্তি বাতিল করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে সেখানেই মেয়ে ভালো থাকবে, আর কোনো ঝামেলা হবে না। আশ্বাস পেয়ে তিনি মেয়েকে রেখে আসেন।গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। মেয়ে জানিয়েছিল ঈদের ছুটিতে তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। রোববার মেয়েকে আনতে মাদ্রাসায় গিয়ে তিনি দেখেন মেয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন পেট ফুলে গেছে। কোনো এক আঘাতের কারণে বাঁ পাও ফুলে গেছে। এ বিষয়ে তাঁরা তাঁকে কিছুই জানাননি। মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী বলেন আপনার মেয়ের কিছুই হয়নি, বাড়িতে নিয়ে যান।৭-৮ মাস আগে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেনশিশুমেয়েটিকে সাত-আট মাস আগে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার একটি কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিল পরিবার। ওই মাদ্রাসার নিচতলায় পরিচালক তাঁর পরিবার নিয়ে থাকেন। আর দোতলায় মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থীদের রাখা হয়। খাওয়াদাওয়ার জন্য তাদের নিচে আনা হয়। নিরাপত্তার নামে এই ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত নির্যাতনের আস্তানায় পরিণত হয়েছিল।৩ জন গ্রেপ্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিএ ঘটনায় শিশুটির মা ভেড়ামাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় মাদ্রাসার পরিচালক (সুপার) সাইদুর রহমান, তার সহযোগী হিসেবে তাঁর স্ত্রী ও একজন নারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ মূল আসামিরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা খুব কমই আলোচনায় আসে। অথচ এমন ঘটনা কমছেই না। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের একাধিক ঘটনা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগ দমিয়ে রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব প্রভাব ব্যবহার করা হয়।সংশ্লিষ্ট মহল বলছেন এসব ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইন ও মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।নির্যাতিত শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা চিকিৎসকদের বক্তব্য, মায়ের বর্ণনা মামলার বর্তমান অবস্থা এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাচ্ছে। শিশুটির আইসিইউতে চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন মানসিকভাবে সুস্থ হতে তার দীর্ঘ সময় লাগবে। শিশুটির মা জানান তিনি মেয়ের বিচার চান। সমাজের সর্বস্তরে এখন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হয়েছে।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আশরাফুল হক (৫৭) কে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হুজরাপুর মন্ডল মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় চাঁপাই প্রেসক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার বসতবাড়িসহ জমি ক্রয়সূত্রে নিজ নামে খারিজ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। প্রতিপক্ষ সামসুল জোহা (৪৮) হঠাৎ জমিজমা সংক্রান্ত শত্রুতা করে জমি দখলের হুমকি সহ বিরোধ সৃষ্টি করলে আশরাফুল হক বাদী হয়ে মোকাম গোমস্তাপুর সহকারী জজ আদালতে বাটোয়ারা মামলা নং- ১৪৩/২০২৩ দায়ের করেন। উক্ত মামলা চলমান রয়েছে। পরবর্তীতে হুমকি দিলে তার স্ত্রী নাজিরা বেগম বাদী হয়ে সামসুল জোহার বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৩২পি/২০২৩। তারপর আশরাফুল হকের স্ত্রী মোসাঃ নাজিরা খাতুন (৪৫) কে মারপিট করে জখম সহ বাড়িঘরে ভাংচুর চালায়। আশরাফুল হক আবারও বাদী হয়ে গোমস্তাপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সি.আর-৭৮৯/২০২৩ ধারা ১৪৩/১৪৪/৩৪১/৩৪৮/৩২৩/৩০৭/৩৫৪/৪২৭/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ পেনাল কোড। মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। তারপরও প্রতিপক্ষ শামসুল জোহা তাকে ও তার স্ত্রীকে মারপিট করে জখম করলে আশরাফুল হক বাদী হয়ে ফের তার বিরুদ্ধে গোমস্তাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২, তারিখ-০৪/০৫/২০২৪,ধারা-১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৫০৬(২)/১১৪ পেনাল কোড। মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। তারপরও প্রতিপক্ষ তাকে ও তার পরিবারের সদস্যকে হুমকি প্রদান করলে তিনি বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে গোমস্তাপুর থানায় গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে জিডি দায়ের করলে গোমস্তাপুর থানা পুলিশ নন এফআইআর প্রসিকিউশন নং- ১০০/২০২৫ আদালতে প্রেরন করেন। উল্লেখিত জমিজমা বিষয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চলতি মাসের গত ২২ মার্চ ভোর ৫ টা ৪৫ মিনিট সময় বোয়ালিয়া ইউনিয়নের মিনি বাজার রাকিবের চায়ের দোকানের সামনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তার লঙ্গির ট্যাপে গুঁজে রাখা নগদ ২ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত সামসুল জোহার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ জানতে তাকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। যার ফলে কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার অফিসার (ওসি) তিনি মুঠো ফোনে জানান বিষয়টি দেখবেন এবং তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
টাঙ্গাইলে পুলিশের অভিযানে ১২ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ইয়াবা ও গাঁজা টাঙ্গাইল, ২৪ মার্চ ২০২৬ টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা, পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইলের নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়।মাদক উদ্ধারের অংশ হিসেবে অভিযানে ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ জানায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে অপরাধ দমনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে জামালপুরের একটি গ্রামের মানুষ যখন এক কাতারে দাঁড়ায়, তখন সেটি শুধু একটি কর্মসূচি নয়—একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। এমনই এক দৃশ্য দেখা গেছে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা-এর আওনা ইউনিয়ন-এর কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) সকালে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে মাদক নির্মূলের দাবিতে ব্যাপক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের প্রধান সড়কে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মসজিদের ইমামসহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, শিক্ষক, যুবসমাজ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী এডভোকেট সাদ্দাম হোসেন এবং কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন মাজাহারুল ইসলাম। এ সময় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক আব্দুল হামিদ, শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, শিক্ষক রিপন, ইউপি সদস্য আয়নাল হক। এছাড়াও বক্তব্য দেন সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুল্লিক, আওনা ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাছুম। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে মাদকের বিস্তার ঘটছে। এর ফলে গ্রামে চুরি, ছিনতাই, ঝগড়া-বিবাদসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পুরো সমাজব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে। তারা আরও বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা শুধু একজন মানুষ নয়, একটি পরিবার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ধ্বংস করে দেয়। তাই এখনই সময় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে “মাদকমুক্ত গ্রাম চাই” স্লোগান দেন এবং দ্রুত মাদক নির্মূলের দাবি জানান। মানববন্ধন চলাকালে দুজন মাদকসেবীর সঙ্গে কথা বলা হলে তারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে মাদক থেকে দূরে থাকার প্রতিজ্ঞা করেন এবং অন্যদেরও সচেতন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ঘটনা উপস্থিত জনতার মাঝে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য, এর আগে এলাকায় মাদকবিরোধী লিফলেট বিতরণ ও দোকানপাটে পোস্টার লাগানোর মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে তেমন পরিবর্তন আসেনি বলে জানান স্থানীয়রা। মানববন্ধন থেকে গ্রামবাসীরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ সময় এলাকাবাসী আরও জানান, প্রয়োজনে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন এবং মাদক নির্মূলে যেকোনো ধরনের সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত রয়েছেন। গ্রামবাসীর আশা, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কাবারিয়াবাড়ী গ্রাম শিগগিরই মাদকমুক্ত একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হবে।